বহু … বহু বছরের সাধ ছিল জানেন! বিশ্বসঙ্গীত যেভাবে আমাকে ছুঁয়েছে, যেভাবে আমার রক্তপ্রবাহে, শ্বাস প্রশ্বাসে পৌঁছে গেছে সেই একই মাধ্যমে আমার নিজের তৈরি করা সঙ্গীতও একদিন রেখে যেতে পারব। সেই তাজমহলে ১৯৯৫-এ Yanni-র Tribute Concert থেকে শুরু, তারপর কখনও Eagles Unplugged, কখনও Pat Metheny বা কখনও Pink Floyd এর Pulse… এরপর একে একে Iron Maiden, Deep Purple, Dream Theater, Pain of Salvation, Porcupine Tree থেকে Sting, Norah Jones, Coldplay, Olafur Arnalds, FKJ কিংবা SYML … আরো কত বিশ্ববরেণ্য সব শিল্পী, ব্যান্ড … সবার কথা কি আর একটা পোস্টে বলা যায়? তবে প্রত্যেকেরই একটা কমন ব্যাপার রয়েছে। এদের প্রত্যেককেই আমি প্রথম শুনেছি এবং মুগ্ধ হয়েছি তাঁদের লাইভ কনসার্ট ফিল্মের মাধ্যমে। সে কীসব প্রোডাকশন, কী রেকর্ডিং কোয়ালিটি! সেইসব শোনার পর তাঁদের অফিসিয়াল রেকর্ড / ডিস্কোগ্রাফি শুনেছি। শেখার চেষ্টা করেছি। জানিনা কতটা শিখতে পেরেছি, কতটা এখনো ফাঁক রয়ে গেছে। তবে একটা অদম্য স্বপ্ন সেই প্রথম দিন থেকেই দেখতাম। দেখতাম এটা জেনেই যে এই স্বপ্ন সত্যি করার মতন প্রযুক্তি, পুঁজি এবং যোগ্যতা হয়ত কোনোদিনই আমার হবে না। নিজের ব্যান্ড AlienZ তখন তার মধ্যগগনে, কত পরিকল্পনা, কত মিটিং, কত আকাশকুসুম ভাবনা সব ওই লাইভ কনসার্ট ফিল্ম নিয়ে। হয়নি। পারিনি। শিলাজিৎ মজুমদার ওরফে আমাদের শিলুদার মাথাতেও জানি এই একই পোকা কামড়েছিল। তাই একেরপর এক চেষ্টা শিলুদাও করে গেছে। আমার সৌভাগ্য আমি কিছু প্রকল্পে ওর সঙ্গে থাকতে পেরেছি, হাতেকলমে আরো বেশি শিখতে পেরেছি। স্পষ্ট দেখতে পেরেছি কোথায় কোথায় স্বপ্ন আর বাস্তব এক্কেবারে আলাদা। এক সময় হয়ত আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। তারপর আরো কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ব্যান্ড থেকে ধীরে ধীরে একক ফর্মে আসা, সাধ্যের মধ্যে সাধপূরণের মতন সাবালক চিন্তাভাবনা, ক্রমাগত প্রযুক্তি ঘেঁটে ঘেঁটে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা, আর কোথাও সেই প্রথম দিনের খিদেটা… আমিও একদিন একটা গোটা কনসার্ট ফিল্ম বানাব। না হয় বিরাট বড় এরিনা নাই বা হল, নাই বা হল হাজার হাজার দর্শক, ব্যান্ড না হোক সোলোই সই, হল তো! হল তো একদম খাঁটি লাইভ মিউজিকের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং। ধরা থাকল তো দর্শক শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস, sing along বা হাততালি, হল তো এক ঘন্টা শুধু স্বরচিত বাংলা গান। শুরু তো হল। এইটুকু তো বুঝতে পারলাম যে নাঃ, প্রযুক্তি বা পুঁজি, কোনোকিছুর অভাবই মানুষের ইচ্ছেকে দমাতে পারে না। সে ঠিক তার পথ খুঁজে নেবেই। জানা নেই আমদের এই কাজ কতজন গ্রহণ করবেন, এই অকালে কতজন আনকোরা কিছু বাংলা গান শুনবেন, এক দেড় মিনিটের রীল আর শর্টসের যুগে কতজন এই এক ঘণ্টার নাতিদীর্ঘ ফিল্ম ধৈর্য ধরে শেষ অবধি দেখবেন- শুনবেন, আদৌ কেমন লাগবে আপনাদের, কিছুই জানিনা। তবে এই যে একটা কিছু নতুন করতে পারলাম, অন্তত শুরুটা করে ফেলতে পারলাম এই আমার বছর শেষের প্রাপ্তি। আমার 2025 Wrap Up
প্রথম single আসছে ২৬ তারিখ মানে আগামী শুক্রবার, গোটা ফিল্ম মুক্তি পাবে এই বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১শে।
পুনশ্চ: আস্পর্ধা দেখেছেন? Stranger Things এর রিলিজের সঙ্গে কেমন ইচ্ছাকৃত সমাপতন তৈরি করেছি ![]()
